২রা মার্চ, ২০১৭ ইং | ১৮ই ফাল্গুন, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ | রাত ১:৫২

এফবিআই ফাঁস করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের গোঁমর


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গোঁমর ফাঁস করে দিয়েছে এফবিআই। ক্ষমতা নেয়ার আগেই তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন। এসব ব্যক্তি এখন ট্রাম্পের প্রশাসনের উপদেষ্টা। রুশ গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ সংক্রান্ত কল রেকর্ডও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর কাছে এসেছে। মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এমনটাই দাবি করছে।
এদিকে রাশিয়ার সঙ্গে হোয়াইট হাউসের গোপন যোগাযোগের তদন্ত দাবি করেছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের কংগ্রেস সদস্যরা। এ ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের পদত্যাগের পর আরও কয়েক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে। এভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবেদনশীল তথ্য রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু হাইপ্রোফাইল বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে খোদ ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও। এদিকে রাশিয়া কোনো ধরনের গোপন যোগাযোগের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, এগুলো গণমাধ্যমের বানানো গালগপ্প। ফ্লিনের পদত্যাগ নিয়ে রাশিয়া কোনো মন্তব্য করবে না। সেটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। সেখানে আমাদের বলার কিছু নেই।
ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার প্রশাসনের নিরাপত্তা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গত শনিবারও ঘটে এমনই এক ঘটনা। ফ্লোরিডায় ব্যক্তিগত মার-আ-লাগো ক্লাবে ট্রাম্প অতিথিদের সঙ্গে বৈঠক করার সময় তাকে ফোনে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথা জানানো হয়। শুধু তাই নয়, ওই ক্লাবে থাকা ট্রাম্পের এক অতিথি ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে এক সেনা কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে বলেন, ওই সেনা কর্মকর্তার হাতে থাকা একটি কালো ব্যাগে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের গোপন কোড সংরক্ষিত। পরে ওই পোস্টটি ডিলিট করে দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটসহ বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নতুন করে গোপন তথ্য ফাঁস ও সাইবার হামলার ঝুঁকি সৃষ্টি করেছেন। তিনি নিজের সঙ্গে দেশের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে ফেলছেন।
সিনেটের গোয়েন্দা কর্মকা বিষয়ক কমিটির সদস্য জ্যেষ্ঠ সিনেটর রন ওয়াইডেন বলেন, এটা মারাত্মক দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। ট্রাম্প নিজের ক্লাবে যে কাউকে অর্থের বিনিময়ে ছবি তুলতে দিচ্ছেন।
কয়েক দিন আগে ট্রাম্পের টুইট অ্যাকাউন্ট যে মোবাইল ফোন থেকে চালানো হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ধারণা করা হয়, তিনি টুইটার চালাতে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ফোনে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি পড়েন। অথচ মোবাইল ফোন হ্যাক করা এখন অসাধ্য কিছু নয়। ট্রাম্পের প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন রাশিয়ার গোয়েন্দাদের সঙ্গে অবরোধ তুলে নেওয়ার ব্যাপারে আলাপ করেছেন এ রকম খবর ফাঁস হওয়ার পর সোমবার পদত্যাগ করেছেন ফ্লিন। এরই মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে ফ্লিন ছাড়াও ট্রাম্পের তৎকালীন নির্বাচনী প্রচার ম্যানেজার পল মানাফোর্ট, সাবেক পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কার্টার পেজও রাশিয়ার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, চার মার্কিন নাগরিক রাশিয়ার সঙ্গে ওই যোগাযোগ করেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের ‘বর্তমান ও সাবেক সদস্য’। রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেশটির সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কথাবার্তায় অংশ নেন। তদন্তের স্বার্থে এফবিআই এসব ব্যক্তির নাম প্রকাশ করছে না। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে হোয়াইট হাউসের গোপন যোগাযোগের তদন্ত দাবি করেছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের কংগ্রেস সদস্যরা। এর মধ্যে রয়েছেন সিনেট সিলেক্ট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস চেয়ার সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার (ডেমোক্র্যাট), প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ডেমোক্র্যাট জন কোনিয়ারস, রিপাবলিকান দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা সিনেটর জন করনিন, সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সদস্য সিনেটর রয় ব্লান্ট (রিপাবলিকান), সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম (রিপাবলিকান) প্রমুখ।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − 10 =

© 2016 প্রতিবেদক. Powered by Service & Maintenance.