২০০ মানসম্মত বই এলেই একুশের গ্রন্থমেলা সার্থক: ইমদাদুল হক মিলন


অমর একুশে গ্রন্থমেলার প্রথম ১৫ দিনে নতুন বই এসেছে ১ হাজার ৭৭৬টি। গতবছর মাসব্যাপী গ্রন্থমেলায় নতুন বই এসেছিল প্রায় সাড়ে ৩ হাজার। এবারো হয়তো সে রকমই বা আরো বেশি বই আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
কিন্তু এতো বইয়ের মধ্যে মানসম্মত বই তেমন আসছে না বলে অভিযোগ রয়েছে শিক্ষাবিদ, পাঠক-দর্শনার্থীদের। তবে লেখকদের অভিমত ভিন্ন। তারা জানান, সাড়ে তিন বা চার হাজার বইয়ের মধ্যে ২০০ বা ৩০০ ভাল বই পাওয়া গেলেই যথেষ্ট। আর সে পরিমান মানসম্মত বই প্রতিবছরই মেলায় আসে।
মানিকগঞ্জ তেরশ্রী ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফিরোজ আলম মানসম্মত বইয়ের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, মেলায় প্রতিবছরই অনেক বই আসে, কিন্তু মানসম্মত বইয়ের বেশ অভাব। গতানুগতিক প্রেম-ভালবাসার বই বেশি দেখা যায়। আর সে বইগুলোর ভাষাও তেমন রুচিসম্মত থাকে না, গল্পের গাথুনিও কেমন যেন দুর্বল থাকে। তিনি বলেন, মেলায় এমন বই আসা দরকার, যে বই পড়লে তরুণ প্রজন্মের চিন্তার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। তারা যেন নানা বিষয়ে নতুনভাবে ভাবতে অভ্যস্ত হয়। তাদের মধ্যে যেন দেশাত্মবোধ জাগ্রত হয়, এমন বইও মেলায় আসা দরকার। কিন্তু তেমন বই খুব একটা দেখা যায় না।
জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, মানসম্মত বই ও লেখক সহজ ব্যাপার নয়। এ জন্য যুগ যুগ অপেক্ষা করতে হয়। তবে আমাদের দেশে এখন যারা লিখছে, তাদের অনেকেই ভাল লিখেন। কিছু তরুণ ভাল লেখকও এসেছে। তিনি বলেন, একটি মেলায় যত বই প্রকাশিত হয়, তার সবই মানসম্মত হবে সেটি আশা করা যায় না। গত বছর প্রায় চার হাজার বই এসেছিল, তার মধ্যে ২০০ মানসম্মত বই এসে থাকলেই আমি খুশি। এবারও যত বই আসবে তার মধ্যে থেকে ২০০ বা ৩০০ মানসম্মত বই এলেই যথেষ্ট বলে তিনি মনে করেন।
এ লেখক আরো বলেন, তবে কিছু ব্যক্তি আছেন, যারা নিজের টাকা দিয়ে বই প্রকাশ করছেন, সেসব বইয়ের মান নিয়ে প্রশ্নই থেকে যায় বলে তিনি জানান। তিনি তাদেরকে নিজের টাকা দিয়ে বই না ছাপানোর আহবান জানিয়ে বলেন, ভাল লেখক হওয়ার জন্য তাদের তিনি বেশি করে লেখার অভ্যাস ও অন্য লেখকদের বই পড়ার অভ্যাস করার পরামর্শ দেন।
Loading Facebook Comments ...